জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জাহাঙ্গীর মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ দগ্ধ হওয়া ইখতারা সরকার (৩০) পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর (শনিবার) ভোরে আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা এলাকার সরকারবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইখতারা ওই এলাকার ঈদন সরকারের মেয়ে। তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায়। প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে পারিবারিক কলহের পাশাপাশি তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। প্রায় দেড় মাস আগে নির্যাতনের শিকার হয়ে দুই বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন ইখতারা।
স্বজনদের দাবি, ঘটনার আগের দিন শুক্রবার ছোট ছেলেকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন জাহাঙ্গীর। এ সময় স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন ভোরে ইখতারার মা ফজরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হলে সেই সুযোগে জাহাঙ্গীর ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত ইখতারার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ইখতারার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে তাঁকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন। এতে তাঁর গলা, কণ্ঠনালিসহ শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
