নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন—রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব ও সিঙ্গারবিল বিচ্ছিন্ন করে ‘বরিশল উপজেলা’ গঠনের উদ্যোগের খবরে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাধারণ আলেম সমাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ ও প্রতিবাদের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন উপজেলা গঠন কিংবা প্রশাসনিক সীমানা পুনর্নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের মতামত, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, সামাজিক বন্ধন ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, দীর্ঘদিনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জনপদকে স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে বিভক্ত করার উদ্যোগ জনমনে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া, জনদুর্ভোগ কমানো এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
এ অবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবিগুলো হলো—
১. ‘বরিশল উপজেলা’ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট চার ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের মতামত নিতে হবে।
২. স্থানীয় জনগণের সম্মতি, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সার্বিক জনস্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে।
৩. জনগণের মতামত ও যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যালোচনা না করা পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে।
৪. সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের নামে জনগণের মতামত উপেক্ষা করা সমীচীন নয়। এলাকার মানুষের ন্যায়সংগত দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উদ্যোগের প্রতি সংগঠনটির সমর্থন রয়েছে।
পরিশেষে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ‘বরিশল উপজেলা’ গঠনের উদ্যোগটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সাধারণ আলেম সমাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মুখপাত্র মোল্লা জাহিদুল হাসান ইসরাফিল। তিনি বলেন, জনস্বার্থ, জনমত ও ঐতিহাসিক সামাজিক ঐক্য রক্ষায় সংগঠনটি সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
