নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দল গঠনকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, বিভিন্ন ফুটবল একাডেমির প্রতিনিধি ও ক্রীড়া সংগঠকদের প্রতিবাদের মুখে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দায়িত্বপ্রাপ্ত কোচ।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে জেলা শহরের লোকনাথ উদ্যান (টেংকেরপাড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিবছর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দল গঠন করে বাফুফে। এ বছর দল গঠনের লক্ষ্যে প্রায় দুই মাস আগে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেয় ফেডারেশন। নিয়ম অনুযায়ী, বাছাই কার্যক্রম শুরুর আগে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ক্লাব এবং ফুটবল একাডেমিগুলোকে অবহিত করার কথা।
তবে অভিযোগ উঠেছে, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য ১১ জন সদস্য এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। জেলার কোনো ক্লাব বা ফুটবল একাডেমিকেও বাছাই কার্যক্রমের বিষয়ে জানানো হয়নি। এমনকি খেলোয়াড় বাছাইয়ের জন্য কোনো প্রচার-প্রচারণাও চালানো হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার দুপুরে কোনো ধরনের উন্মুক্ত ট্রায়াল ছাড়াই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পছন্দের কয়েকজন খেলোয়াড়কে বাফুফের মেডিকেল ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, বিভিন্ন একাডেমির প্রতিনিধি ও ফুটবল সংগঠকেরা সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান।
এ সময় বাফুফের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোচের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোচ খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরে উত্তেজনার একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক গোলরক্ষক ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মামুন খান বলেন, প্রতিবছর অনূর্ধ্ব-১৫ দল গঠনের সময়টিতে আগ্রহী খেলোয়াড়েরা অপেক্ষায় থাকে। গত বছর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। এতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৩০০ খেলোয়াড় অংশ নেয়। সেখান থেকে ৫০ জনকে বাছাই করা হয়। কিন্তু এবার কোনো প্রচারণা ছাড়াই ট্রায়াল না নিয়ে খেলোয়াড়দের মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড ফুটবল একাডেমির প্রধান কোচ শওকত আলী বলেন, জেলায় পাঁচটি নিবন্ধিত ফুটবল একাডেমি রয়েছে। প্রতিবছর এ সময় খেলোয়াড়েরা বাছাইয়ের অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু এবার বাছাই কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো একাডেমিকে জানানো হয়নি। এমনকি কাউকে চিঠিও দেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মো. তৌফিক বলেন, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কোনো তহবিল নেই। দল গঠনের বিষয়ে সভাপতি তাঁকে বাফুফেতে স্বাক্ষর দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এ কার্যক্রমের সব খরচ তাঁকেই বহন করতে হচ্ছে। দল গঠনের জন্য ফেডারেশন থেকে মাত্র ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। গত বছর তিনি সদর উপজেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি থাকলেও অনূর্ধ্ব-১৫ দল গঠনের সময় তাঁকে জানানো হয়নি। এবার তিনি কাউকে বাদ দেননি বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও বাফুফের কোচ মো. ইকরামুর রহমান রানা বলেন, ফেডারেশন থেকে জেলা অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দিয়ে খেলোয়াড় বাছাই করে রাখতে বলা হয়েছিল। পরে বাফুফের সদস্যরা এসে চূড়ান্ত দল গঠন করবেন। জেলা অ্যাসোসিয়েশন এ কার্যক্রম সম্পন্ন না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁর ধারণা।
সব মিলিয়ে বাছাই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার কারণে আপাতত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দল গঠনের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
