নিজস্ব প্রতিবেদক
‘অন্ন হোক সবার অধিকার, ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পার্কে অসহায়, দরিদ্র, পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির নিয়মিত মানবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে প্রায় ৩০০ মানুষের মাঝে একবেলার খাবার বিতরণ করা হয়।
সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিজেরাই অসহায় মানুষের হাতে খাবার তুলে দেন।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নিয়মিত এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০০ মানুষের জন্য একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে কমলাপুর রেলস্টেশন, তেজগাঁও রেলস্টেশন, কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক জালাল, ভাইস চেয়ারম্যান ও দৈনিক দিন প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. শফিকুল ইসলাম সাদ্দাম, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আলম সুরমা, যুগ্ম মহাসচিব মো. সালমান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরুজ্জামান মিল্টন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম ও মোসাম্মদ দিপা আক্তার এবং কার্যকরী সদস্য মো. সাইদুর রহমান স্বপনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহসভাপতি মো. সেলিম হোসেন, মো. জনি হোসেন ও মো. রেজবী আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচিতে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন শুধু সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে না; একই সঙ্গে সমাজের অসহায়, দরিদ্র, পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণেও কাজ করছে। ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতি সপ্তাহে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০০ মানুষের জন্য একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় ফাউন্ডেশনের ৪৩টি জেলা কমিটি ও ১৪টি থানা কমিটি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলা ও থানা পর্যায়ে এ মানবিক কার্যক্রম চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সামর্থ্য ও সাংগঠনিক সক্ষমতা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। সাংবাদিকদের যেকোনো বিপদ-আপদে ফাউন্ডেশন অতীতেও পাশে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। পাশাপাশি অসহায় ও গৃহহীন মানুষের কল্যাণেও সংগঠনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাংবাদিক সমাজের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের যেকোনো সংকট ও দুর্দিনে সংগঠনটি পাশে থাকবে। একই সঙ্গে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভাইস চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক জালাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করছে সংগঠনটি। সাংবাদিকরা যেন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা ও তাঁদের প্রাপ্য অধিকার পান, সে বিষয়ে সংগঠন সচেতন ভূমিকা পালন করছে। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।
ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পথশিশু, হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে ক্ষুধামুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আলম সুরমা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের নানা অসংগতি ও অনিয়ম তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাংবাদিকদের সুখে-দুঃখে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন পাশে থাকবে। একই সঙ্গে অসহায় মানুষের কল্যাণে সংগঠনের মানবিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজে এখনো অসংখ্য মানুষ রয়েছেন, যাঁরা প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খান। বিশেষ করে পথশিশু, ছিন্নমূল, গৃহহীন ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য একবেলার খাবারও অনেক সময় বড় প্রাপ্তি। তাই আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিতভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ জানান, ভবিষ্যতেও প্রতি শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খাবার বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও থানা কমিটির মাধ্যমে সারা দেশে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
