নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাছিহাতা ইউনিয়নে কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাট করে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের জমি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মাছিহাতা ইউনিয়নের যুবদলের খোকন আহমেদ এবং সাবেক আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইউনিয়ন সভাপতি পদপ্রার্থী হারুন, যিনি বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন,সহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি তার কৃষিজমিতে বালু ফেলে ভরাট করেছেন। এ ঘটনায় তিনি নিজের জমির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এলাকায় জমি ও বালু ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। ড্রেজার ব্যবসাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও তিনি অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী বলেন, “আমাদের কৃষিজমি কি এভাবে জোর করে বালু দিয়ে ভরাট করে দখল করে নেওয়া যাবে? আমি কি কোনো বিচার পাব? দেশে কি আইন নেই?”
তার আরও অভিযোগ, ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করার সময় স্থানীয় অনেকেই এগিয়ে আসেননি। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। পরে তার অসুস্থ মা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, কারও রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় যাই হোক না কেন, একজন সাধারণ মানুষের মালিকানাধীন কৃষিজমি যদি অনুমতি ছাড়া ভরাট বা দখলের চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ কোথায়?
তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত, জমির মালিকানা ও ভরাটের বৈধতা যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত খোকন আহমেদ, হারুনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে—কৃষিজমি ভরাটের ঘটনাটি আইনসম্মত ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল। ভুক্তভোগীর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব নয়, ঘটনার প্রকৃত সত্য যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
