ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চুরি হয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার চুরি করে নেওয়ার জন্য মালামাল গুছিয়ে রাখার পর সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন সোহান (২০) নামে এক যুবক। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
আটক সোহান সরাইল উপজেলার হালুয়াপাড়া এলাকার সফিকের ছেলে।
জানা গেছে, গত শনিবার রাতে সরাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কার্যালয়ে ঢুকে বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নেওয়ার প্রস্তুতি নেয় চোরচক্রের সদস্যরা। এ সময় কার্যালয়ের ভেতর থেকে বিভিন্ন মালামাল বের করে এক জায়গায় গুছিয়ে রাখা হয়।
পরদিন রোববার সকালে এসব মালামাল কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় উপজেলা পরিষদে আসা লোকজনের সন্দেহ হয়। তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে এগিয়ে এসে সোহানকে আটক করেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
এক বছর ধরে চুরির অভিযোগ
সরাইল মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কার্যালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল-নথি ও বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে আসছে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিনের এসব চুরিতে বিপুল পরিমাণ মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ নথি খোয়া গেছে। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
ডেপুটি কমান্ডার বলেন, সর্বশেষ ঘটনাতেও চোরচক্রের সদস্যরা মালামাল সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় একজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
মামলা করেছে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড
এ ঘটনায় ডেপুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলা করেছেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক সোহানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল-নথি ও মালামাল চুরির অভিযোগ ওঠায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চুরির সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
