মাহমুদুল হাসান জামিল | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খাদ্য ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য (নিবন্ধন ও লাইসেন্স) প্রবিধিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে স্থায়ী অবকাঠামো ও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে—এমন খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে সরাসরি বিএফএসএর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ে অথবা ডাকযোগে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
এ কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠান, স্থায়ী পাইকারি মুদি দোকান, আইসক্রিম কারখানা, কোল্ড স্টোরেজ, বেসরকারি খাদ্য গুদাম, সুপারশপ, শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান।
তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অস্থায়ী ও ভাসমান খাদ্য বিক্রেতা এবং পিঠা-পুলি, ফুচকা ও চটপটি বিক্রেতাদের জন্য আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে তাঁদেরও এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনের জন্য ৫.১ নম্বর এবং লাইসেন্সের জন্য ৬.১ নম্বর নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও খাদ্য ব্যবসা পরিচালনাকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিদ্যমান অন্যান্য লাইসেন্সের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
নিবন্ধনের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না। তবে নিবন্ধন নবায়ন, ডুপ্লিকেট কপি বা পুনরায় ইস্যুর ক্ষেত্রে ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, লাইসেন্স আবেদনের ফি ১ হাজার টাকা। নিবন্ধন ও লাইসেন্স উভয়ের মেয়াদ হবে তিন বছর।
আবেদন জমা দেওয়ার ঠিকানা: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, দ্বিতীয় তলা, হামীম ভবন, দাতিয়ারা, ওয়াপদা রোড, সদর-৩৪০০, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে ই-মেইল: fso.brahmanbaria@bfsa.gov.bd অথবা ওয়েবসাইট: www.bfsa.brahmanbaria.gov.bd-এ।
এদিকে, আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের নিজেরাই আবেদনপত্র পূরণ ও জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দ্রুত নিবন্ধন বা লাইসেন্স করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কেউ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে তাঁদের সঙ্গে লেনদেন না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
কোনো ধরনের প্রতারণা বা অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটলে নিরাপদ খাদ্য অফিসারকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে অফলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস প্রস্তুত হলে পরবর্তী সময়ে অনলাইনে আবেদনের সুযোগ চালু করা হবে।
