ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আর এসব প্রতিষ্ঠানের অন্যতম আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে গর্ভবতী মায়েদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি। সম্প্রতি হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি এবং এটি নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, গর্ভের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ কন্যা ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি বাড়ায় এবং সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে। তবে বাস্তবতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনেক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গোপনে অর্থের বিনিময়ে সন্তান ছেলে না মেয়ে তা জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতিটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট সংরক্ষণ করা হবে। এখন দেখার বিষয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু গাইডলাইন নয়, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্লিনিকগুলোতে চলা গোপন লিঙ্গ শনাক্তকরণ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই রায় শুধু একটি আইনি নির্দেশনা নয়, এটি কন্যাশিশুর বেঁচে থাকা, মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
