ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরী তার গর্ভের সন্তানের পিতৃ পরিচয় ও ন্যায়বিচারের দাবিতে অসহায়ভাবে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। দরিদ্র পরিবারটির অভিযোগ, প্রভাবশালী অভিযুক্ত পক্ষের কারণে তারা বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ইসলামাবাদ গ্রামের বিনু মিয়ার ছেলে ইয়ামিন প্রথমে জোরপূর্বক এবং পরে বিয়ের প্রলোভন কিশোরীকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। কিন্তু এই কিশোরী ভয়ে তার পরিবারের কাউকে কিছু জানায়নি।
একপর্যায়ে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ইয়ামিন বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকে। গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করতে কিশোরী রাজি না হলে একসময় ইয়ামিন সেই দরিদ্র পরিবারের কিশোরীকে আর পাত্তা দেয় না। অসহায় কিশোরী আর উপায় না পেয়ে সমস্ত ঘটনা তার পরিবারকে জানায়।
এদিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বার বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়ামিনের পরিবারের লোকজন জানান, আমরা সেই মেয়ের লোকজনকে জানিয়ে দিয়েছি বাচ্চা হওয়ার পর ডিএনএ পরীক্ষায় যদি প্রমাণিত হয় এই বাচ্চা ইয়ামিনের, তাহলে আমরা বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চিন্তাভাবনা করবো।
এ বিষয়ে এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআই পুলিশের এসআই মাহবুব হোসেন বলেন, সরাইলের ইসলামাবাদ গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে এসেছি। মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে, কিন্তু এখনও রিপোর্ট হাতে আসেনি। অধিকতর তদন্তের পর যথাসময়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
