ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান, পারিবারিক কলহ ও মানসিক হতাশার জেরে শরীফ মিয়া (২৮) নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (১৫ জুলাই) ভোররাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শোলাবাড়ি গ্রামের পূর্বপাড়ায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শরীফ মিয়া ওই গ্রামের শামিম মিয়ার ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে হকারির কাজও করতেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ শোবার ঘরে গলায় ফাঁস দেন শরীফ। পরে পরিবারের লোকজন তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত নামালেও তখন তিনি আর জীবিত ছিলেন না।
খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতের বাবা শামিম মিয়া জানান, প্রায় তিন বছর আগে শরীফের বিয়ে হয় চুন্টা ইউনিয়নের তারাখলা গ্রামের হোসনা বেগমের সঙ্গে। তাদের সংসারে এক ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিরোধ, ঘরজামাই থাকা এবং একটি অটোরিকশা বিক্রিকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকেই শরীফ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং একাকী জীবনযাপন শুরু করেন।
পরিবারের ধারণা, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও দাম্পত্য কলহের জেরেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তবে এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী হোসনা বেগমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গলায় ফাঁস দিয়ে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, শরীফকে দীর্ঘদিন ধরেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত দেখা যাচ্ছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
