ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবারের এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। জেলার সাতটি বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে ছয়টি বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের এবং দুটি বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।
জেলা শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এবারের এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ বছর জেলায় মোট ১ হাজার ৪৯৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬১২ জন। আর ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৭১৪ জন।
ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে জেলার পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সে তুলনায় চলতি বছর পাসের হার কমেছে প্রায় ১১ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এদিকে, কোনো কোনো বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট বিভাগে ফলাফল আরও হতাশাজনক। একটি বিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাসের হার ছিল শূন্য। আবার একটি বিদ্যালয়ে ৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৮ জন পাস করেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্বিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব বিদ্যালয় ও বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খতিয়ে দেখে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
