নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে অশ্লীল ভিডিও তৈরি ও প্রচারের অভিযোগকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘Rihiya Rihi’ নামে পরিচিত এক তরুণের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভিডিও তৈরি ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই তরুণ নিজেকে নারীর আদলে উপস্থাপন করে মেয়েদের কণ্ঠস্বর অনুকরণ এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গির ভিডিও তৈরি করেন। পরে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকে প্রচার করা হয়। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজন মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রবণতার কারণে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি করছেন। এসব কনটেন্টের মধ্যে কিছু ভিডিও কিশোর ও তরুণদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একটি শ্রেণি এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে অশালীনতা, কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ও বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত রুচির প্রশ্ন নয়, এর নেতিবাচক প্রভাব আমাদের কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের ওপর পড়ছে।”
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কনটেন্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পাশাপাশি প্রচলিত আইন ও প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অশ্লীলতা, হয়রানি, প্রতারণা বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীলভাবে কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে ‘Rihiya Rihi’ নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
