নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ানো এই রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার বংশবিস্তার রোধের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সাধারণত হঠাৎ তীব্র জ্বর দেখা দেয়। এর সঙ্গে মাথাব্যথা, শরীর ও গা ব্যথা, বমি বা বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র্যাশ হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে দুর্বলতা ও অবসাদও দেখা যায়।
এসব উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কোথায় বংশবিস্তার করে এডিস মশা?
এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। বাড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন ছোট পাত্রেও অল্প পরিমাণ পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে।
ফুলের টব ও টবের নিচের প্লেট, পরিত্যক্ত বোতল-কৌটা, বালতি, ড্রাম, পুরোনো টায়ার, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা ছাদ ও বারান্দায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে।
তাই বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়া জরুরি।
ব্যক্তিগত সুরক্ষায় যা করবেন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখলেই হবে না, ব্যক্তিগত সুরক্ষার দিকেও নজর দিতে হবে।
- দিনের বেলাতেও প্রয়োজনে মশারি ব্যবহার করুন।
- বাইরে বের হলে ফুলহাতা পোশাক পরুন।
- প্রয়োজন অনুযায়ী মশা তাড়ানোর স্প্রে বা রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন।
- দরজা-জানালায় মশা প্রতিরোধক নেট ব্যবহার করতে পারেন।
- বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
ডেঙ্গু হলে কী করবেন?
ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করাতে হবে। পাশাপাশি শরীরে পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত পানি, তরল খাবার ও ওরস্যালাইন পান করা গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বর ও ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনসহ অন্যান্য NSAID ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
জ্বর কমলেও সতর্ক থাকতে হবে
ডেঙ্গুতে জ্বর কমে গেলেই রোগী পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত—এমনটা মনে করার কারণ নেই। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে।
পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, নাক-মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, রক্তবমি বা কালো পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা। বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নিজে সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন করুন—ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন রাখুন আপনার ঘর ও চারপাশ।
