আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ভাটামাথা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ১৩টি জিপিএ-৫ পেয়েছে আখাউড়া নাছরিন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আখাউড়ার ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৪২৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯১৮ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৫০৮ জন। উপজেলায় মোট পাসের হার ৬৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। যেখানে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।
পাসের হারে এগিয়ে ভাটামাথা
আখাউড়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে ভাটামাথা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
এর পরের অবস্থানে রয়েছে রাণীখার এস এ হান্নান কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ঘোলখার রাণীখার উচ্চ বিদ্যালয় ও নূরপুর রুটি আব্দুল হক ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৮০ শতাংশ করে।
হীরাপুর শহীদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, কর্মমঠ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭০ শতাংশ, নাছরিন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৮ দশমিক ২২ শতাংশ, মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ, আমোদাবাদ আলহাজ্ব শাহ আলম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬১ দশমিক ৫৪ শতাংশ, দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ, বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং শাহপীর কল্লা শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
এ ছাড়া ছতুরা চান্দপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তুলাই শিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ, মনিয়ন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৯ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং ছয়ঘড়িয়া আলহাজ্ব শাহ আলম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
জিপিএ-৫-এ সবার ওপরে নাছরিন নবী
জিপিএ-৫ অর্জনের দিক থেকে এবার সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে আখাউড়া নাছরিন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এ ছাড়া দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, রাণীখার এস এ হান্নান কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন, হীরাপুর শহীদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন, আমোদাবাদ আলহাজ্ব শাহ আলম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন এবং ভাটামাথ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তুলাই শিমুল উচ্চ বিদ্যালয়, ছতুরা চান্দপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ঘোলখার রাণীখার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
দাখিলে পাসের হার ৪৮.৮৮ শতাংশ
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আখাউড়ার ৮টি মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় মোট ৪৪৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ২২৯ জন উত্তীর্ণ এবং ২১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৪৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
দাখিলে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে মাদ্রাসাতু ছালেহা খাতুন দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং এখান থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
হযরত শাহপীর কল্লা শহীদ (রহ.) দাখিল মাদ্রাসায় পাসের হার ৭০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আখাউড়া টেকনিক্যাল আলিম মাদ্রাসায় পাসের হার ৬০ শতাংশ এবং একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এ ছাড়া টনকী সাদেকুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় ৫৪ দশমিক ০৯ শতাংশ, আয়েশা হাসেন এতিম আলী ভূঁইয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৪০ দশমিক ৮৪ শতাংশ, মনিয়ন্দ দাখিল মাদ্রাসায় ৩৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, রাণীখার সৈয়দ এমদাদুল বারী গাউসিয়া আলিম মাদ্রাসায় ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং কার্নেল বাজার দারুল সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায় ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
কারিগরিতে পাসের হার ২৫.৭৪ শতাংশ
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আখাউড়ার দুটি প্রতিষ্ঠানে মোট ১০১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬ জন উত্তীর্ণ এবং ৭৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ২৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
সরকারি ভোকেশনাল টেক্সটাইল থেকে ৯০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে নূরপুর রুটি আব্দুল হক ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখায় ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এখানে পাসের হার ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
যা বলছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা
ভাটামাথা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাসান কবির চৌধুরী বলেন, “এবারের এসএসসি পরীক্ষায় আমাদের বিদ্যালয়ের ৯০ দশমিক ৭৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা আখাউড়া উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। এ সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সার্বিক সহযোগিতার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।”
তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ আরও বাড়াতে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেব। এই সাফল্যের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।”
আখাউড়া নাছরিন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বণিক বলেন, “এবারের এই সাফল্য আমাদের শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান এবং অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও সচেতনতার সম্মিলিত ফল। সর্বোচ্চ ১৩টি জিপিএ-৫ অর্জন করায় আমি বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, এবারের ফলাফলে ভালো করা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানের ফল আশানুরূপ হয়নি, সেগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুর্বলতা চিহ্নিত করা হবে এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
