ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: শিল্প-সাহিত্য ও লোকজ সংস্কৃতির জনপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুর্গোৎসব ঘিরে এবার দেখা গেছে ভিন্নধর্মী শৈল্পিক আয়োজন। মণ্ডপের সাজসজ্জায় স্থান পেয়েছে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার নানা অনুষঙ্গ। কোথাও পাটের শৈল্পিক ব্যবহার, কোথাও টেরাকোটায় পৌরাণিক কাহিনি, আবার কোথাও তালপাতার পাখা ও গাজীর পটে ফুটে উঠেছে বাংলার শেকড়ের গল্প।
দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি দেশীয় শিল্প ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার এমন উদ্যোগ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। প্রতিটি মণ্ডপে নান্দনিক সাজসজ্জা ও প্রতিমার বৈচিত্র্য উৎসবে যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার রামঠাকুর ক্লাবের মণ্ডপে টেরাকোটার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের কাহিনি। মাটির ফলকে ফুটে উঠেছে পৌরাণিক আখ্যান ও শিল্পের মেলবন্ধন। দক্ষিণ কালীবাড়ির মণ্ডপে সোনালি আঁশ পাটের শৈল্পিক ব্যবহার এবং মহাদেবপট্টির পুষ্পাঞ্জলি সংসদের নান্দনিক আয়োজনও নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।
জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে লোকজ উপকরণের সৃজনশীল ব্যবহার যেন নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে। উৎসবের এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় আবহেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিল্প-ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরারও একটি প্রয়াস।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ৬২৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫০টি বেশি। মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাজসজ্জা ও থিমভিত্তিক উপস্থাপনাতেও এসেছে বৈচিত্র্য।
উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। সীমান্ত এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। এ ছাড়া জেলা সদরের একাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
সড়ক বাজারের ব্যবসায়ী সন্দিপন পাল বাবন বলেন, পৌর এলাকার মণ্ডপগুলোতে এবার সাজসজ্জার ক্ষেত্রে বেশ বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। থিমভিত্তিক আয়োজন দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি করছে।
রামঠাকুর আশ্রমের শৈল্পিক কাজের সঙ্গে যুক্ত চিত্রশিল্পী দীপ্ত মোদক জানান, তাঁদের মণ্ডপে টেরাকোটার মাধ্যমে অসুর বধের কাহিনি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের ভালো লাগবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহসভাপতি সঞ্জীব সাহা বাপ্পী বলেন, এ বছর জেলার ৬২৮টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলা সদরের বেশ কয়েকটি মণ্ডপে নতুনত্ব এসেছে, যা উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবারের দুর্গোৎসব হয়ে উঠেছে ধর্মীয় আচার, শিল্পচর্চা ও লোকজ ঐতিহ্যের এক বর্ণিল সম্মিলন। প্রতিমার নান্দনিকতা, মণ্ডপের ব্যতিক্রমী সাজসজ্জা আর দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে জেলার বিভিন্ন এলাকা।
