ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদলির এক মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়নি। বিদায়ী ওসি দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও কেটে গেছে ১৫ দিন। এর মধ্যে থানার সেকেন্ড অফিসার দুই মাসের প্রশিক্ষণে ঢাকায় থাকায় জনবল ও পুলিশি সেবা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরীকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় বদলি করা হয়। পরে ২ অক্টোবর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আনিসুর রহমানের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তিনি ছাড়পত্র নেন। এরপর থেকে নিয়মিত ওসি ছাড়াই চলছে থানার কার্যক্রম। বর্তমানে মো. আনিসুর রহমানকে ওসি হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, থানার সেকেন্ড অফিসার নুর আলম দুই মাসের প্রশিক্ষণে ঢাকায় রয়েছেন। তারও বদলির আদেশ হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে থানার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ করেও মিলছে না দ্রুত প্রতিকার
আশুগঞ্জ উপজেলার চারতলা গ্রামের ইউসুফ মিয়া ও লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাদকসংক্রান্ত কয়েকটি বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েও তারা প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। তাদের দাবি, বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবস্থা নিতে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আট ইউনিয়নের দায়িত্বে জনবলসংকটের শঙ্কা
আশুগঞ্জ থানায় বর্তমানে নয়জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই), ১১ জন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) ও ৩৩ জন কনস্টেবল কর্মরত রয়েছেন। উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই জনবলকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আটটি ইউনিয়নে বিট ও সহকারী বিট কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করায় থানার অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের প্রয়োজন হয়। থানার গুরুত্ব বিবেচনায় এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দ্রুত ওসি নিয়োগের দাবি
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আনিসুর রহমানকে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন ওসি পদায়নে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখেন। জেলা পুলিশ লাইনে ইন্সপেক্টর থাকা সত্ত্বেও আশুগঞ্জ থানায় নতুন ওসি নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা তো অনেক সাংবাদিক রয়েছেন, যে কাউকে তো আর প্রেস ক্লাবের সভাপতি করা যায় না।”
অন্যদিকে, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও সেবাপ্রার্থীরা দ্রুত সাড়া পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগের বিষয়ে আরাফাতুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি পুলিশ সুপারকে অবহিত করবেন।
বদলির আদেশের এক মাস এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের ১৫ দিন পার হলেও আশুগঞ্জ থানায় নিয়মিত ওসি নিয়োগ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন নিয়মিত ওসি পদায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল বাড়াতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, থানায় কার্যকর নেতৃত্ব ও দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।
