আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ককটেল উদ্ধার; আহত অন্তত ১০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া (৩৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের সেন্টু মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি নরসিংদী থেকে ভাড়াটে হিসেবে সংঘর্ষে অংশ নিতে এসেছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শান্তিপুর গ্রামের আজগর আলী সরকার ও সফু সরকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৩০ জুন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর সফু সরকারের লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে সফু সরকারের নাতি মোক্তার হোসেনের নেতৃত্বে নরসিংদী থেকে লোকজন এনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ থেকে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি ও পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে ভোরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।
তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
