ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদ্রাসায় কয়েকদিন অনুপস্থিত থাকার জেরে ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বেত দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব নামে ওই শিক্ষককে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটির খালু হওয়ায় পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি হয়নি পরিবার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার হাফেজি বিভাগের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ (১১) গত বুধবার এ নির্যাতনের শিকার হয়। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের প্রবাসী রমজান আলী ওরফে রুমান মিয়ার ছেলে।
অভিযুক্ত মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব শিশুটির খালু। তিনি কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত নাজিমে তালিমাত (শিক্ষা সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শেষে আব্দুল্লাহ বাড়িতে চলে যায়। এরপর কয়েকদিন মাদ্রাসায় না ফেরায় ক্ষুব্ধ হন মুফতি ইব্রাহিম। বুধবার সকালে তিনি শিশুটিকে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় নিয়ে আসেন। পরে বেত দিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
মারধরের একপর্যায়ে শিশুটি গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে কৃষ্ণনগর বাজারের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মহিউদ্দিন আশরাফী বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষককে মাদ্রাসায় রাখা হবে না।
নবীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা না হলেও আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবে।
পুলিশ জানায়, শিশুটির মা থানায় একটি মুচলেকা দিয়েছেন। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করতে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
