ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ৩৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে ২০টিই অচল। গুরুত্বপূর্ণ এসব ক্যামেরা কাজ না করায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে তিন দিন বয়সী এক নবজাতক চুরির ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে ক্যামেরাগুলোর অচল অবস্থার বিষয়টি সামনে আসে।
নবজাতক চুরির ঘটনার পর ফুটেজ পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানের ক্যামেরা সচল নেই। এমনকি জরুরি বিভাগের প্রধান ক্যামেরাটিও অচল। ফলে ওই এলাকার প্রয়োজনীয় ফুটেজ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। এতে নবজাতককে নিয়ে যাওয়া নারীকে শনাক্ত করতে তদন্তকারীরা জটিলতায় পড়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগ, দ্বিতীয় তলা, লিফটের সামনে ও জরুরি বিভাগের ভেতরে কয়েকটি ক্যামেরা সচল রয়েছে। তবে হাসপাতালের প্রবেশপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ক্যামেরা অচল। রোগীদের যাতায়াত বেশি—এমন কিছু এলাকাতেও কার্যকর নজরদারি নেই।
হাসপাতালের মতো জনবহুল প্রতিষ্ঠানে রোগী, নবজাতক, স্বজন ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ৩৪টি ক্যামেরার মধ্যে ২০টি অচল থাকায় হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া হাসপাতালকে ঘিরে দালালচক্র, চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কা, বিভিন্ন অনিয়ম ও ওষুধ সরবরাহ নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন কাজ গণপূর্ত বিভাগ করে থাকে। ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ওই বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বাজেট না থাকায় কাজ হচ্ছে না। জেলা পরিষদকেও ক্যামেরা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। নবজাতক চুরির ঘটনার অনেক আগে থেকেই কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ক্যামেরা স্থাপনের চেষ্টা চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৩৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও কয়েকটি সচল নয়। নবজাতক চুরির ঘটনার সব ফুটেজ পাওয়া যায়নি। যে ফুটেজ পাওয়া গেছে, তার একটিতে এক নারীকে নবজাতক নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। তবে দৃশ্যটি স্পষ্ট নয়। অন্য ক্যামেরাগুলোতে ঘটনার ফুটেজ পাওয়া যায়নি। ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে তদন্ত আরও সহজ হতো।
হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর সিসিটিভি ক্যামেরা দ্রুত সচল করা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ সহজ হবে।
