ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাঅষ্টমীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা। দেবী দুর্গার প্রতীকী রূপে কুমারী কন্যার পূজা-অর্চনায় অংশ নেন ভক্তরা। প্রার্থনা করেন পরিবার, সমাজ ও বিশ্বমানবতার কল্যাণে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে শহরের কালাইশ্রীপাড়া গুরুচরণ রায়ের আখড়ায় টাউন সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির আয়োজনে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১০ বছর বয়সী ঈশিতা চক্রবর্তীকে কুমারী রূপে পূজা করা হয়।
পূজাকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকে মণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। শাস্ত্রীয় বিধি অনুসরণ করে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কুমারী কন্যার মধ্যে দেবী দুর্গার প্রতীকী রূপ কল্পনা করে পূজা-অর্চনা করেন ভক্তরা।
পূজামণ্ডপে উপস্থিত গায়ত্রী সাহা, রাকেশ রায় ও সঞ্জয় সাহা জানান, তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী দেবীরই একটি রূপ। পূজার মাধ্যমে তাঁরা পরিবারের সদস্যসহ সবার মঙ্গল কামনা করেন। পাশাপাশি অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বশান্তির জন্য প্রার্থনা জানান।
টাউন সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের পুরোহিত প্রসেঞ্জিৎ চক্রবর্তী বলেন, ধর্মীয় উপাখ্যান অনুযায়ী, কোলাসুর নামের এক অসুর স্বর্গ ও মর্ত্য অধিকার করলে দেবতারা মহাকালীর শরণাপন্ন হন। দেবী মানবকন্যারূপে আবির্ভূত হয়ে কুমারী অবস্থায় কোলাসুরকে বধ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এই উপাখ্যানকে কেন্দ্র করেই কুমারী পূজার প্রচলন হয়েছে।
এর আগে সকালে মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। এ সময় ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় পূজার বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা।
ধর্মীয় আচার, ভক্তদের প্রার্থনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহাঅষ্টমীর দিনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূজামণ্ডপে বিশেষ আবহ তৈরি করে।
