বিজয়নগর প্রতিনিধি: পেশা ছোট নয়, ছোট নয় কোনো সৎ উপার্জন। এরই বাস্তব উদাহরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল বাজারের অর্পণ দাস। প্রতিদিন মাত্র চার ঘণ্টা মাছ কাটার কাজ করে মাসে আয় করছেন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। সেই আয়ে চলে ১০ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের পড়াশোনাসহ সংসারের নানা খরচ।
সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের এই বাজারে প্রায় তিন বছর ধরে মাছ কাটার কাজ করছেন অর্পণ। একসময় মাছের ব্যবসা করলেও পরে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বেছে নেন এই পেশা। বর্তমানে মাছ কাটাই তাঁর পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান অবলম্বন।
অর্পণ জানান, বড় মাছ কাটতে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা এবং ছোট দেশি মাছ কাটতে ৫০ টাকা নেন তিনি। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ কেজি মাছ কাটেন। কাজের পরিমাণ অনুযায়ী দৈনিক আয় হয় প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা।
এই আয়ের প্রতিটি টাকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের দায়িত্ব। বাজারে তাঁর হাত চলে মাছ কাটার কাজে, আর সেই শ্রমের উপার্জনেই চলে পরিবারের দৈনন্দিন জীবন। সীমিত সময়ের কাজ হলেও সংসারের দায়িত্ব পালনে নেই কোনো বিরতি।
অর্পণের এই উদ্যোগে উপকৃত হচ্ছেন বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতারাও। মাছ কেনার পর বাজারেই কাটিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন তাঁরা। এতে সময় বাঁচছে, কমছে বাড়তি ঝামেলা। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরাও মনে করেন, বাজারে মাছ কাটার এই ব্যবস্থা ক্রেতাদের জন্য সুবিধা তৈরি করেছে।
অর্পণের গল্পের বিশেষত্ব শুধু তাঁর মাসিক আয় নয়, বরং নিজের শ্রমকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের দায়িত্ব সামলে নেওয়ার দৃঢ়তা। নেই বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, নেই চাকরির পদবি—আছে পরিশ্রম, দক্ষতা আর সৎ পথে উপার্জনের চেষ্টা।
সিঙ্গারবিল বাজারের এই শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম যেন একটি বার্তাই দেয়—সম্মানজনক জীবনের জন্য কাজের বড় পরিচয় নয়, প্রয়োজন পরিশ্রমের মর্যাদা আর দায়িত্ব পালনের মানসিকতা।
