ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার খড়মপুরে কল্লা শহীদ (রহ.) মাজার শরীফে প্রতিদিন ভোরে দেখা মেলে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের। সূর্য ওঠার আগেই মাজারের উঠানে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ধান, চাল, গম ও রুটি। খাবারের টানে চারদিক থেকে উড়ে আসে অসংখ্য কাক, কবুতর, দোয়েল ও চড়ুই পাখি। তাদের ডানা ঝাপটানো আর কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে মাজার প্রাঙ্গণ।
বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই আয়োজন যেন মানুষ ও পাখির মধ্যে গড়ে ওঠা এক নীরব মমতার বন্ধন। প্রতিদিন সকালে পাখিদের খাবার দিতে হাজির হন মাজারের খাদেম ও সেবকেরা। তাঁদের সঙ্গে কখনো কখনো যুক্ত হন মাজারে আসা ভক্ত-আশেকানরাও।
মাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন পাখিদের জন্য প্রায় তিন থেকে চার কেজি ধান, চাল ও গমের পাশাপাশি কয়েকটি পাউরুটি ঘি দিয়ে মাখিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। খাবার পেয়ে দল বেঁধে নেমে আসে পাখিরা। কেউ খাবার কুড়িয়ে নেয়, কেউ ডানা মেলে উড়ে যায়, আবার কেউ অপেক্ষা করে একটু দূরে।
মাজারের খাদেম কাজী মাইনুদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ভোরে হাজার হাজার কাক, কবুতর, দোয়েল ও চড়ুই পাখি এখানে খাবার খেতে আসে। সকালে খাবার খেয়ে তারা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। দিন শেষে আবার মাজারে ফিরে আসে এবং রাতে চত্বরের গাছগুলোতে আশ্রয় নেয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি মাজারে পাখিদের খাবার খাওয়ার এই দৃশ্য দেখে আসছেন।
মাজারের সেবক মোহাম্মদ আলী জানান, প্রতিদিন পাখিদের জন্য ধান, চাল, গম ও পাউরুটির ব্যবস্থা করা হয়। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এসে এসব খাবার খেয়ে যায়।
খড়মপুর মাজার শরীফ কমিটির সদস্য মো. রনি খাদেম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে পাখিদের খাবার দেওয়া হচ্ছে। ছোটবেলা থেকে দেখে আসা এই দৃশ্য এখনো তাঁর মন ভালো করে দেয়। সকালে পাখিদের দল বেঁধে খাবার খাওয়ার দৃশ্য তাঁর কাছে প্রশান্তির।
প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা যে কত সাধারণ অথচ সুন্দরভাবে প্রকাশ পেতে পারে, তারই এক অনন্য উদাহরণ খড়মপুরের এই আয়োজন। প্রতিদিন ভোরে পাখিদের কলকাকলিতে মাজার প্রাঙ্গণে তৈরি হয় এক সজীব পরিবেশ। আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাখিরা উড়ে যায় নিজ নিজ গন্তব্যে। তবে পরদিন ভোরে খাবারের আশায় আবারও ফিরে আসে তারা।
এভাবেই কল্লা শহীদ (রহ.) মাজার শরীফে প্রতিটি সকাল হয়ে ওঠে মানুষ ও পাখির সহাবস্থান, মমতা আর প্রকৃতির এক মুগ্ধকর গল্প।
