কসবায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন দিন পর মামলা
সালিশে মীমাংসার চেষ্টা ও হুমকির অভিযোগ পরিবারের, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা ও মামলা না করতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার। ঘটনার তিন দিন পর শিশুটির মা থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে কসবা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করা হয়। অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়া উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি ফার্নিচারের দোকানের মালিক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির জন্য সয়াবিন তেল কিনতে বাজারে যায় শিশুটি। ফেরার পথে ইয়াসিন মিয়া তাকে জোর করে নিজের দোকানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে শিশুটি চিৎকার করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং ২০ টাকা দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
বাড়ি ফিরে শিশুটি তার মাকে ঘটনা জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিযুক্তের স্বজনদের জানান।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে দুই পক্ষের লোকজন বৈঠকে বসেন। সেখানে ১২ জনকে নিয়ে একটি জুরি বোর্ড গঠন করে ক্ষমা চাওয়ানোর মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে শিশুটির বাবা এতে রাজি না হয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের দাবি, এ সময় অভিযুক্ত ও তাঁর পক্ষের কয়েকজন মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ কারণে তাঁরা ভয়ে ছিলেন। পরে সন্তানের প্রতি নির্যাতনের বিচার চেয়ে শনিবার রাতে থানায় মামলা করেন শিশুটির মা।
রোববার সকালে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে থানায় আনা হলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও স্বজনেরা তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুই পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বৈঠকে বসেছিলেন। ধর্ষণের বিচার করার এখতিয়ার সালিশের নয়, প্রচলিত আইনের। অভিযোগ সত্য হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূইয়া জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির মা মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
