ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ আরজু হাসান।
বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় বিজিএফের চাউল বিতরণকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত ১০ কেজি চাউলের পরিবর্তে ৮ থেকে ৯ কেজি করে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, ট্যাগ অফিসার মানিকুর রহমানের দায়িত্বে চাউল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। বিতরণের সময় উপকারভোগীরা চাউল কম পাওয়ার অভিযোগ তুললে সরেজমিনে ওজন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন বস্তা মেপে দেখেন। এ সময় যেখানে প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি চাউল থাকার কথা, সেখানে অনেক বস্তায় মাত্র ২৫ কেজি চাউল পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ট্যাগ অফিসার মানিকুর রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন,
“চাউলে যে কম ছিল, আপনি আমাকে আগে জানাননি কেন? জানালে আমি খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধান করতে পারতাম।”
এই বক্তব্যের পর পুরো ঘটনায় নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদি আগে থেকেই চাউল কম থাকার বিষয়টি জানা থাকে, তাহলে কেন তা গোপন রাখা হলো? গরিব মানুষের প্রাপ্য খাদ্য সহায়তা নিয়ে এমন অনিয়মের দায় কার—খাদ্য গুদাম অফিসের, নাকি পৌরসভার দায়িত্বশীলদের? এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, “গরিবের হক মেরে যারা নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় অনিয়ম হবে। অসহায় মানুষের মুখের খাবার নিয়ে কারসাজি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
সচেতন মহলের দাবি, এই ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ গরিব মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুধু অনিয়ম নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
