ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। ২৬৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বর্তমানে মাত্র চারজন শিক্ষক কর্মরত থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। এতে পাঠদান প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত চাপে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত শিক্ষকরা।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। একসময় রাস্তাঘাটহীন প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থাপিত এই প্রতিষ্ঠানটির হাত ধরেই পুরো এলাকায় শিক্ষার হার, অবকাঠামোগত ও আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটে। বিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এখানে নিয়মিত পাঠদান চললেও বিগত সরকারের মেয়াদের শুরুতে রাজনৈতিক প্রভাবে বিদ্যালয়ের অনুমোদিত ছয়টি পদের মধ্যে একটি পদ অন্য স্কুলে সমন্বয় করা হয়। এর ফলে পদ সংখ্যা পাঁচে নেমে আসে। পরবর্তীতে গত বছর আরও একজন শিক্ষক অন্যত্র চাকুরি নিয়ে চলে যাওয়ায় বর্তমানে মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থী অনুপাতে বিদ্যালয়টিতে অন্তত সাত থেকে আটজন শিক্ষক থাকা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়টির জমিদাতা সদস্য ও সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ এমদাদুল হক সোহাগ জানান, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টি শিক্ষক সংকটে ভুগছে। তিনি বলেন, “২৬৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে মানসম্মত পাঠদান প্রায় অসম্ভব। সংকটের পাশাপাশি সরকারি দাপ্তরিক কাজের চাপে শিক্ষকরা পাঠদানে কাঙ্ক্ষিত সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তুলতে পারছেন না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সদিচ্ছা থাকলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসের উদাসীনতায় সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।”
বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোঃ গোলাম আজম আক্ষেপ করে বলেন, “উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন, অথচ আমরা বছরের পর বছর চরম সংকট মোকাবেলা করছি। বিষয়টি আমাদের চরম ক্লান্ত ও হতাশ করে তুলছে।” অনেক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর তুলনায় দ্বিগুণ শিক্ষক রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত কোনো সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলে বিদ্যালয়টি এক শিফটে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী অভিভাবক ও সচেতন মহল অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্রুত শূন্যপদগুলো পূরণ করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শামসুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ৪০জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার কথা, যদিও আমরা শিক্ষার্থীর সংখ্যাটা আরো কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি কিভাবে শূন্যপদ পূরণ, শিক্ষক সমন্বয় ও সমাধান করা যায়। কসবা উপজেলা শিক্ষা অফিসারকেও বলে দিচ্ছি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।
