সংসারে অভাব-অনটন নিত্যদিনের সঙ্গী। বাবা মানসিকভাবে অসুস্থ, মা নিজেও শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছেন। তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। জীবিকার তাগিদে হাঁস-মুরগি পালন করেই কোনোভাবে সংসারের চাকা সচল রেখেছেন মা। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনার পথ থেকে সরে যায়নি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাইবা আক্তার মিলি। বরং নিজের অদম্য চেষ্টা ও অধ্যবসায়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।
সাইবা আক্তার মিলি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের বাকাইল গ্রামের বাসিন্দা। সে বাকাইল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী। পরিবারের নানা সংকট, আর্থিক অনটন ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছে মিলি। শেষ পর্যন্ত তার সেই পরিশ্রমের ফল এসেছে এসএসসির ফলাফলে।
মিলির বাবা আবুল কাশেম একসময় প্রসাধনীর ব্যবসা করতেন। ব্যবসার পাশাপাশি কবিতা লেখারও অভ্যাস ছিল তার। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর থেকে আর কোনো কাজ করতে পারেননি। ফলে পরিবারের উপার্জনের প্রধান দায়িত্ব এসে পড়ে স্ত্রী রীনা বেগমের ওপর।
নিজের পায়ের সমস্যাও রয়েছে রীনা বেগমের। তবুও তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতে থেমে থাকেননি তিনি। হাঁস-মুরগি পালন করে সামান্য আয় দিয়ে পরিবারের খরচ চালানোর চেষ্টা করেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।
এমন একটি পরিবারের সন্তান হয়েও মিলি হাল ছাড়েনি। অভাব-অনটনকে বাধা হতে দেয়নি তার স্বপ্নপূরণের পথে। নিজের চেষ্টা ও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।
মিলির এই সাফল্যে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে অর্জন করা এই ফলাফল শুধু তার পরিবারের জন্যই নয়, কঠিন পরিস্থিতিতেও যারা স্বপ্ন দেখছে, তাদের জন্যও অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।
