প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষতি, ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার দাবি এলাকাবাসীর
তারিখ: ১৭ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ‘আয়াত স্টোর’ নামে একটি মুদি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় দোকানটির প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল ও সম্পদ পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।
আগুনে দোকানের কোনো মালামালই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সব হারিয়ে বর্তমানে চরম বিপাকে পড়েছেন দোকানটির মালিক ও তরুণ উদ্যোক্তা কামাল হোসেন।
ঋণের টাকায় গড়া স্বপ্ন পুড়ে ছাই
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক কামাল হোসেন সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ ও ধারদেনা করে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় মুদি দোকানটি চালু করেছিলেন। দোকানের আয় দিয়েই তার সংসার ও জীবিকা নির্বাহের প্রধান ব্যয় মেটানো হতো।
কামাল হোসেন বলেন, স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঋণ করে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ আগুনে মুহূর্তের মধ্যে তার দোকান ও পুঁজি সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে তিনি একদিকে যেমন ব্যবসা হারিয়েছেন, অন্যদিকে ঋণের বোঝাও মাথায় রয়ে গেছে।
সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের পৌঁছাতে বেগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে দোকানটিতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকানটি এলাকার ভেতরে এবং সংযোগ সড়কটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই দোকানের প্রায় সব মালামাল পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান পরিদর্শনে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান যুবদল ও সদর উপজেলা কৃষক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা পুড়ে যাওয়া দোকানটি ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী কামাল হোসেনের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন, সদস্য সচিব মামুন মিঞা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহান আহমেদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার দাবি
হঠাৎ এই অগ্নিকাণ্ডে কামাল হোসেনের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ঋণ ও ধারদেনা করে গড়ে তোলা ব্যবসা হারিয়ে তরুণ এই উদ্যোক্তার পক্ষে একা ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।
এ অবস্থায় সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে কামাল হোসেনকে আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে সর্বস্ব হারানো এই তরুণ উদ্যোক্তা আবারও নতুন করে ব্যবসা শুরু করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
