ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের কাকরিয়া গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে রিং জাল ও বৈদ্যুতিক শর্ট ব্যবহার করে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জেলেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র রিং জাল ও বৈদ্যুতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে অবাধে মাছ শিকার করে আসছে। এতে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ একসঙ্গে নিধন হচ্ছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক শর্টের মাধ্যমে মাছ ধরার কারণে পানিতে থাকা মাছের পাশাপাশি মাছের প্রজনন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় জেলেদের।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দুবাজাইল নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে রিং জাল ও বৈদ্যুতিক মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করলেও পরবর্তীতে সেগুলো ধ্বংস বা নষ্ট করে যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার পরিবর্তে টাকা-পয়সার লেনদেনের মাধ্যমে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় জেলেদের আশঙ্কা, অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে মাছ ধরা বন্ধ না হলে অদূর ভবিষ্যতে এলাকার বিলগুলোতে দেশীয় মাছের সংকট দেখা দিতে পারে। তাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জব্দ করা অবৈধ সরঞ্জাম যথাযথ প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে দুবাজাইল নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে সাংবাদিককে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রকাশ্য দিবালোকে অবৈধভাবে মাছ নিধনের অভিযোগের পরও যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে জলজ সম্পদ ও দেশীয় মাছের প্রজনন রক্ষা করবে কে?
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নৌ পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
