মোহাম্মদ অলিউল্লাহ খান
বিশেষ প্রতিনিধি
তারিখ: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ (১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর আনন্দবাজার কারখানাঘাট সংলগ্ন তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকায় চলছে দেশীয় মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের এক উদ্বেজনক মহোৎসব। রাতের আঁধার পেরিয়ে ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগমুহূর্তে একশ্রেণির অসাধু চক্র ‘চায়না দুয়ারী জাল’ ও ‘রিং জাল’ ব্যবহার করে নির্বিচারে দেশীয় মা মাছ শিকারে লিপ্ত হয়েছে।
সামান্য কিছু আর্থিক লাভের লোভে দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার ও প্রাকৃতিক প্রজনন প্রক্রিয়া মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলা হলেও সংশ্লিষ্ট মহলে দৃশ্যমান কোনো প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
বিশেষ এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রশ্ন জাগে, কেন অপরাধমূলক এই কার্যক্রমের জন্য কেবল ভোরবেলাকেই বেছে নেওয়া হয়?
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সাধারণত ভোরের আলো পুরোপুরি ফোটার আগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট তদারকি দলগুলো ওই অঞ্চলে নিয়মিত পরিদর্শন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না। ঠিক এই প্রশাসনিক শূন্যতা ও সুযোগটিকে কাজে লাগায় অসাধু চক্রটি।
গভীর রাতে নদীতে নিষিদ্ধ জাল পেতে রেখে সূর্যের আলো ফোটার আগেই তারা গোপনে তা গুটিয়ে নেয়।
এসব অবৈধ ও ক্ষতিকর জালের ফাঁদে পড়ে ছোট-বড় কোনো জলজ প্রাণী বা মাছই রেহাই পাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রজননক্ষম মা মাছগুলো জালের ভেতর আটকা পড়ে মারা যাওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব আজ বিলুপ্তির পথে।
বিবেকহীন এই চক্রের দায়িত্বহীন ও লোভী মানসিকতার কারণে তিতাস নদীর স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশাসনের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করার প্রবণতা
নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার্থে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মৎস্য অধিদপ্তর থেকে নিয়মিতভাবে কঠোর হুঁশিয়ারি ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। প্রশাসনিক আদেশ ও আইনি বাধ্যবাধকতাকে পুরোপুরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বীরদর্পে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এই বেআইনি কার্যক্রম।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিতাস নদী সুরক্ষা ও মৎস্যজীবী উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: এখলাছুল কবির মৃধা অভিযোগ করেন—
”জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার কঠোর হুঁশিয়ারি ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হলেও একশ্রেণির অসাধু চক্র আইনের কোনো তোয়াক্কা করছে না। তারা তিতাস নদীতে ‘চায়না দুয়ারী জাল’ ও ‘রিং জাল’ দিয়ে অবাধে মা মাছ নিধন করে চলেছে। ভোরবেলার এই সময়টিতে প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে তারা নদীকে মাছশূন্য করার এই খেলায় মেতেছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ ও নদী রক্ষা করতে হলে নিয়মিত টহল জোরদার করার পাশাপাশি এই চক্রের বিরুদ্ধে অচিরেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
পরিশেষে, তিতাস নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং দেশীয় মৎস্যসম্পদের টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে আনন্দবাজার কারখানাঘাটসহ সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি এবং তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট বা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের সবচেয়ে জোراলো দাবি।
