ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নাচের অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নিয়ে এক কিশোরী নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মুজাহিদকে (১৮) সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের গোলাপগঞ্জ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মুজাহিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার শাহ-পড়াত এলাকার আবছুর মিয়ার ছেলে।
এসআরবি-৯ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় নৃত্যশিল্পী। চলতি বছরের মার্চ মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পেজের মাধ্যমে তার সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগ হয়।
পরে ১০ মার্চ একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য ৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে চুক্তি করে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ডেকে আনা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওইদিন বিকেলে ভুক্তভোগী ও তার সঙ্গীরা সরাইলের কুট্টাপাড়া বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাদের প্রথমে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এবং পরে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুলে নেয়।
নৌকাটি তিতাস নদীর শাহবাজপুর ব্রিজের নিচে পৌঁছালে অভিযুক্তরা হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গীদের জিম্মি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে নৌকার ছাউনির ভেতরে ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি-৯।
তদন্তের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেটের গোলাপগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মুজাহিদকে সরাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
