বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুরে এক বিবাহিত নারীকে উত্ত্যক্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং অর্থ দাবির ঘটনায় উসমান গনি (২৮) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না এ শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
উসমান গনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক নারী গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় উসমান গনির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, উসমান গনি ওই নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। একপর্যায়ে ওই নারীর ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি সম্পাদনা করে তার দেবরের মেসেঞ্জারে পাঠানো হয়। এতে ওই নারীর সামাজিক ও পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া উসমান গনি ওই নারীকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন এবং বিয়ে না করলে তার ছবি সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই নারীর মায়ের কাছে ৪ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দেওয়া হলে তাকে আর উত্ত্যক্ত করা হবে না বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে স্বামীকে ছেড়ে তাকে বিয়ে না করলে সুযোগ পেলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানানো হলেও উসমান গনি তাতে কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে ওই নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ উসমান গনিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে বিএনপির কয়েকজন ঊর্ধ্বতন নেতা থানায় গিয়ে বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না এমন শর্তে মুচলেকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ইভটিজিং, সাইবার বুলিং ও নারীদের হয়রানির বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি। এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ এ ধরনের ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
