ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা রেলওয়ে স্টেশনে দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী আন্তনগর মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রেনটি প্রথমবারের মতো কসবা স্টেশনে থামলে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় স্টেশন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, ট্রেনটির যাত্রাবিরতি চালুর খবর পেয়ে কসবা রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হন। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও মিছিল নিয়ে স্টেশনে আসেন। ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে অনেকে ছবি তুলে মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে নিয়মিত চলাচলকারী মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেসের কসবা স্টেশনে আগে যাত্রাবিরতি ছিল না। ফলে এ ট্রেনে যাতায়াত করতে কসবা ও আশপাশের এলাকার যাত্রীদের অন্য স্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হতো। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে কসবা স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান জাতীয় সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করেন। অবশেষে স্টেশনটিতে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় স্থানীয় যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান। তিনি কসবা স্টেশনে মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রেলমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কসবা স্টেশনমাস্টার শফিকুর রহমান জানান, মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস কসবা স্টেশনে দুই মিনিটের জন্য যাত্রাবিরতি দেবে। এ স্টেশন থেকে ট্রেনটিতে যাত্রীদের জন্য পাঁচটি আসন বরাদ্দ থাকবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেনটির সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে কসবা স্টেশনে পৌঁছানোর কথা। তবে যাত্রাবিরতি শুরুর দিন বৃহস্পতিবার ট্রেনটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্টেশনে পৌঁছায়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগের রেলওয়ে ট্রাফিক কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম, কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
