ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: মাত্র ৩৫ হাজার টাকা ঋণ। সেই ঋণের চাপে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন এক বাবা। চরম আর্থিক সংকটে শেষ পর্যন্ত দুই মাস বয়সী সন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগ ও এক মানবিক ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছে। ফিরে পেয়েছেন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িটিও।
মর্মস্পর্শী এ ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাজানগর এলাকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুলাল মিয়া ভ্যানগাড়ি চালিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসার চালান। সম্প্রতি ৩৫ হাজার টাকা ঋণের কারণে তাঁর ভ্যানগাড়িটি আটকে যায়। টানা ১৫ দিন গাড়ি চালাতে না পেরে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। এতে পরিবারে দেখা দেয় চরম সংকট। ঋণ পরিশোধের কোনো পথ খুঁজে না পেয়ে অসহায় অবস্থায় দুই মাস বয়সী সন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় যুবকেরা শিশুটিকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন। পরে নবীনগর বাজারের এক মানবিক ব্যবসায়ী দুলাল মিয়ার ঋণের পুরো ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে আটকে থাকা ভ্যানগাড়িটি ছাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
এতে সংকটের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখেন দুলাল মিয়া। সন্তানকে কাছে রাখা এবং জীবিকার অবলম্বন ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে পরিবারটিতে।
দুলাল মিয়া বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমার সন্তানকে আর কোনো দিন বিক্রি করব না। আমার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। ভ্যানগাড়ি চালিয়ে যা আয় করি, তা দিয়েই সংসার চালাই। প্রায় ১৫ দিন ধরে গাড়িটি আটকে থাকায় দিশাহারা হয়ে পড়েছিলাম। এখন স্থানীয় যুবকেরা ও একজন ব্যবসায়ী আমার গাড়িটি উদ্ধার করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁদের ভালো রাখুন। ইনশাআল্লাহ, এখন পরিবার নিয়ে সুন্দরভাবে চলতে পারব।”
একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শিশুটিকে বিক্রির হাত থেকে রক্ষা এবং পরিবারের উপার্জনের পথ ফিরিয়ে দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা দেখা গেছে। যুবকদের উদ্যোগ ও ব্যবসায়ীর সহযোগিতাকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
তবে এ ঘটনা শুধু মানবিক উদ্যোগের গল্প নয়, বরং আর্থিক সংকটে একটি পরিবার কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারে, তারও নির্মম চিত্র। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এমন সংকটে থাকা পরিবারগুলোর পাশে সমাজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও বেশি করে এগিয়ে আসবেন, যাতে অভাবের কারণে কোনো বাবা-মাকে এমন চরম সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে না হয়।
