ফজলে রাব্বি পাপপু
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার বিপরীত পাশে বগডহর গ্রামে তিতাস নদী ভরাট করে দখলের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগ এখন থমকে গেছে। অভিযুক্ত আহমদ হাসপাতালের মালিককে জরিমানা ও বালু সরিয়ে নেওয়ার ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নদী থেকে বালু না সরানোয় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগডহর গ্রামে অবস্থিত আহমদ হাসপাতালের মালিক হাসপাতালের জায়গা দাবি করে তিতাস নদীর একাংশ বালু ফেলে ভরাট করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। নদী দখলের খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে এবং অভিযুক্ত হাসপাতাল মালিককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়। সেই সাথে ভরাটকৃত বালু নিজ দায়িত্বে অপসারণের জন্য তাকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া ১৫ দিনের সময়সীমা বহু আগেই পার হয়ে গেলেও নদী থেকে এক কোদাল বালুও সরানো হয়নি। নদী যেভাবে ভরাট করা হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই পড়ে রয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পর হঠাৎ এই নিষ্ক্রিয়তা নানা সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে। কোনো উচ্চপর্যায়ের মহলের প্রভাব বা সমঝোতার ফলেই কি নদী দখলকারী বহাল তবিয়তে রয়েছে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের ক্ষোভ, “যদি বালুই না সরানো হয় এবং দখলদারিত্ব বজায় থাকে, তবে শুধু নামমাত্র জরিমানা করে নাটক সাজানোর কী অর্থ ছিল? প্রশাসন এখন কেন রহস্যজনকভাবে নীরব?
এলাকাবাসীর দাবি, তিতাস নদী রক্ষায় কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ভরাটকৃত বালু অপসারণ করতে হবে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে নদীটিকে তার আগের রূপে ফিরিয়ে দিতে হবে।
