মোছাব্বির হাসান সজীব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত শিল্পকারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন শিক্ষাবিদ ও রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, তবে এর দায় যেন কারখানার সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর না পড়ে।
অধ্যাপক ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল বলেন, “দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত মালিকদের কঠোর শাস্তি হতে হবে, তবে কারখানা বন্ধ করে নয়। প্রয়োজনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রশাসক নিয়োগ করে কারখানা সচল রাখা যেতে পারে।”
তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক বা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। কিন্তু সেই অভিযোগের কারণে পুরো একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
তার মতে, শিল্পকারখানা শুধু মালিকের ব্যবসার ক্ষেত্র নয়, এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান ও পরিবারের জীবিকা জড়িত। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে যেন নতুন করে বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি না হয়, সেদিকেও প্রশাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ড. মিথিল আরও বলেন, “কারখানা বন্ধ করে বেকারত্বের চাপ বাড়ানো কোনোভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না।” প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় প্রশাসক নিয়োগ করে উৎপাদন ও কার্যক্রম চালু রাখা যেতে পারে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থান রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। মালিকের অনিয়মের শাস্তি যেন শ্রমিকদের জীবিকার সংকটের কারণ না হয় এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিই শিল্প ও অর্থনীতির জন্য অধিক কার্যকর হতে পারে।
অধ্যাপক ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম মিথিলের বক্তব্যে মূলত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং একই সঙ্গে শিল্পকারখানা সচল রাখার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
