নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ভালোবাসার টানে নিজের ধর্ম, পরিবার ও ঘরবাড়ি ছেড়েছিলেন সুনামগঞ্জের তরুণী প্রিয়া রানী দাস। বিয়ের পর ধর্ম পরিবর্তন করে নাম নেন জেসমিন আক্তার। সংসারে একে একে জন্ম নেয় তিন সন্তান। কিন্তু অভিযোগ, তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে রেখে অন্যত্র নতুন সংসার শুরু করেছেন স্বামী মিজানুর রহমান। ফলে বর্তমানে তিন সন্তানকে নিয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন জেসমিন। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে বাধ্য হয়ে পথে পথে ভিক্ষা করছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের গোপাল দাসের মেয়ে প্রিয়া রানী দাসের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নুরপুর পাঠালিসা গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রিয়া রানী নিজের ধর্ম পরিবর্তন করে ‘জেসমিন আক্তার’ নাম ধারণ করেন এবং মিজানুর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের পর তাদের সংসারে একে একে তিন সন্তানের জন্ম হয়। বড় মেয়ের বয়স ৯ বছর, মেজো মেয়ের সাড়ে ৩ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স মাত্র ৯ মাস।
জেসমিনের অভিযোগ, সম্প্রতি তিন সন্তানসহ তাকে অসহায় অবস্থায় রেখে মিজানুর রহমান অন্য এক নারীকে বিয়ে করে অন্যত্র সংসার শুরু করেছেন। এরপর থেকেই তিন সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।
বর্তমানে ৯ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ তিন সন্তানকে নিয়ে খাবারের জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে জেসমিনের। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে বাধ্য হয়ে তিনি ভিক্ষা করছেন বলে জানান। তবে ভিক্ষা করতে গিয়েও তাকে নানা ধরনের লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকার হতে হচ্ছে। অনেকেই সাহায্যের পরিবর্তে তাকে তাড়িয়ে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তার।
এ অবস্থায় জেসমিন ও তার তিন সন্তানের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অসহায় নারী ও নিষ্পাপ শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, তিনটি শিশুর ভবিষ্যৎ ও মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক ও সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
