ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতির মধ্যেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, আইয়ুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামান হক, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ তিতাস, পৌর ছাত্রলীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আশিকুর রহমান বাবু, ছলিমাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ছলিমাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রুমন হায়দার, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সেলিম রেজা এবং বাঞ্ছারামপুর টেকনিকাল স্কুল এন্ড কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সোহাইল আহমেদ, পৌর ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান মেহের।
এ ছাড়াও ফরদাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক জুলাই আগস্ট হত্যা মামলার আসামি নাসির উদ্দীন দুলালের উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা সমালোচনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতের নেতাকর্মীদের একসঙ্গে উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কীভাবে এমন একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেলেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাঞ্ছারামপুর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইমান আলী। তিনি ফেসবুক লাইভে এসে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
লাইভে ইমান আলী বলেন, বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের উদ্বোধনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকী অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভবন উদ্বোধন করবেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তিনি আওয়ামী লীগবিরোধী সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, জুলাই হত্যামামলার আসামি নাসির উদ্দীন দুলাল, ফয়সাল আহমেদ খানসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রেস ক্লাব উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। তিনি কি ভুলে গেছেন ফ্যাসিস্টদের অত্যাচারের কথা?
তিনি আরও বলেন, তারা দেশবিরোধী ও দেশদ্রোহী এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যদি না জেনে থাকেন, তাহলে তাঁর জানা উচিত ছিল। আবদুর রহিম সাকী সাহেবের কর্মী পরিচয় দেওয়া শামীম শিবলী আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের কাজ করে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইমান আলী বলেন, র্দুদিনে জেল জুলুম হামলা মামলার শিকার হয়েছি কিন্তু সুসময়েও ফায়দা নিচ্ছে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। জুলাই হত্যামামলার আসামিদের নিয়ে এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করা হলে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
এ ঘটনায় বাঞ্ছারামপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
