এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন, বন্ধ ৫ সিএনজি স্টেশন ও ১৭ শিল্পকারখানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
এলএনজি সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক এলাকায় পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা।
গ্যাস সংকটের কারণে জেলার পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ১৭টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা বন্ধ রয়েছে। বাসাবাড়িতেও গ্যাস সরবরাহ না থাকায় অনেক এলাকায় মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাসের মাধ্যমে রান্না করতে হচ্ছে। হঠাৎ সৃষ্ট এ সংকটে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও পরিবহনশ্রমিকরা।
জেলা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (BGDCL) আওতাধীন এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশ আবাসিক গ্রাহকই বর্তমানে গ্যাস সংকটে ভুগছেন।
কলেজপাড়ার বাসিন্দা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, “বুধবার দুপুর থেকেই বাসায় গ্যাস নেই। রান্নাবান্না নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে।”
পাইকপাড়ার বাসিন্দা সালমা আক্তার বলেন, “সকাল থেকে চুলায় গ্যাসের চাপ নেই। নাস্তা ও রান্না করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। সিলিন্ডার কিনে রান্না করতে বাড়তি খরচ হচ্ছে।”
গ্যাস না থাকায় বিপাকে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশাচালকরাও। চালক মো. সোহেল মিয়া বলেন, “ফিলিং স্টেশনে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছি না। গাড়ি চালাতে না পারলে আমাদের আয়ও বন্ধ।”
একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মো. জাকির হোসেন বলেন, “গ্যাসের চাপ না থাকায় গাড়িতে গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক গাড়ি ফিরে যাচ্ছে।”
গ্যাস সংকটে হোটেল ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বড় ধরনের সমস্যায়। হোটেল ব্যবসায়ী মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছি না। ব্যবসা প্রায় বন্ধ। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বড় লোকসান গুনতে হবে।”
এ বিষয়ে BGDCL ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, “গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার কারণে বাণিজ্যিক পর্যায়ে পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ। আবাসিকেও বেশিরভাগ জায়গায় সরবরাহ নেই। কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।”
বুধবার BGDCL-এর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনালের FSRU থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাবে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
এদিকে, আকস্মিক এ গ্যাস সংকটে জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। আবাসিক গ্রাহকদের বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনে রান্না করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সিএনজি অটোরিকশাচালক ও গ্যাসনির্ভর ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলোও পড়েছে আর্থিক ক্ষতির মুখে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
