ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ—৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকা এই হাসপাতালে নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জরুরি বিভাগেও বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহ, নেবুলাইজেশনসহ জরুরি চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তীব্র গরমে অন্ধকার ওয়ার্ড ও বারান্দায় রোগীদের দুর্ভোগের চিত্র আরও ভয়াবহ। কোথাও কোথাও চিকিৎসক ও নার্সদের মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় তা সার্বক্ষণিক চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হাসপাতালের মর্গে। বিদ্যুৎ না থাকায় ময়নাতদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হিমাগারের ফ্রিজ বন্ধ থাকায় সংরক্ষিত অজ্ঞাত লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালকর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর পাশাপাশি আজ ভোর থেকে জেলাজুড়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন—দুই ক্ষেত্রেই তৈরি হয়েছে গুরুতর ভোগান্তি।
এ অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আনা, জরুরি ভিত্তিতে জেনারেটরের পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা এবং রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা দ্রুত বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
স্থানীয় মানবিক সংগঠন “ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর”-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎবিহীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের এই করুণ চিত্র—স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব অবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
মানুষের মৌলিক সেবা যেখানে সংকটে, সেখানে আত্মতুষ্টির প্রচারের চেয়ে জবাবদিহি, জরুরি ব্যবস্থা এবং মানুষের দুর্ভোগ লাঘবই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার।
