মোহাম্মদ অলিউল্লাহ খাঁন
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী
তারিখ: ২৯ জুলাই, ২০২৬
একসময়ের প্রবহমান ও দেশীয় মাছে ভরপুর তিতাস নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে ধুঁকছে। অতীতে যে নদীর তীরে বসা মাত্রই টপাটপ বড়শিতে ধরা দিত নানা জাতের শত রকমের দেশীয় মাছ, আজ সেই তিতাস নদীতে বড়শিতে মাছ শিকার তো দূরের কথা, সারাদিন জাল ফেলে পেশাদার জেলেরা পর্যন্ত খালি হাতে ফিরছেন।
মাছ না পেয়ে চরম মানবেতর ও দিশেহারা জীবনযাপন করছেন নদীনির্ভর জেলে পরিবারগুলো। বিভিন্ন সংগঠন ও সচেতন মহল দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য নানা উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তার সুফল ব্যাহত হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম দেশীয় মাছ রক্ষায় কারেন্ট জাল ও রিং জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। প্রশাসনের এমন ইতিবাচক ও কঠোর অবস্থানের পরও একশ্রেণির অসাধু চক্র আইনের তোয়াক্কা না করে নদী ধ্বংসের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে অত্যন্ত সুকৌশলে নতুন পথ বেছে নিয়েছে এই চক্রটি। প্রতিদিন ফজরের আজানের পরপরই শত শত দুষ্কৃতকারী—যাঁরা জেলে নামের আড়ালে মূলত মৎস্য নিধনকারী—কারেন্ট জাল ও রিং জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন। বিশেষ করে মেড্ডা শ্মশান ঘাট, আনন্দবাজার এবং বিলের প্রায় বেশ কিছু পয়েন্টসহ তিতাস নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সুকৌশলে এসব জাল পেতে নির্বিচারে দেশীয় ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন করছে।
প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান সাধারণত দিনের আলোতে হওয়ায়, ভোরের এই সময়টিকে এবং নদী ও বিলের এসব পয়েন্টকে তারা বেছে নেয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা নির্বিচারে ডিমওয়ালা ও পোনা মাছসহ সব ধরনের ছোট-বড় দেশীয় মাছ ধ্বংস করছে।
প্রকৃত জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারাও এই ধরনের কারেন্ট জাল ও রিং জাল ব্যবহারের তীব্র বিরোধী। এই অসদুপায় ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের কারণে নদীমাতৃক পেশার মানুষগুলো আজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ জেলেরা এসব অপরাধীদের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি চান।
আইনের যথাযথ প্রয়োগের ফাঁকফোকর গলিয়ে ভোরের বিশেষ সময়ে নজরদারির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশের অমূল্য মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার ও প্রাকৃতিক প্রজনন প্রক্রিয়া।
