গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির ইস্যুতে জাতীয় সংসদে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে অধিবেশনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে হট্টগোলও সৃষ্টি হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে একটি বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, প্রতিটি সরকারেরই নিজস্ব একটি চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকটের পাশাপাশি দুর্নীতির ঘটনা নতুন নয়। তাঁর দাবি, বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছেছিল। একই সঙ্গে বর্তমানে দেশে ঋণখেলাপির পরিমাণও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, দেশে ঋণখেলাপির পরিমাণ ছয় লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
এ বক্তব্যের পর সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
পরে রুমিন ফারহানা সংসদে ভিন্নমত প্রকাশের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভিন্নমতের বক্তব্যের সময় অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। অতীতেও এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে এবং বর্তমানে তা আরও তীব্র হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঋণখেলাপিদের সংসদে অংশগ্রহণের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমিন। তাঁর ভাষ্য, সংসদের অনেক সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে আদালতের মাধ্যমে ঋণখেলাপির বাধা দূর করার নজিরও রয়েছে।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু সময় সংসদে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও পরে অধিবেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।
