নিজস্ব প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২০ বছর পূর্তি ও মহাপুনর্মিলনী উদ্যাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে লোগো উন্মোচন, কেক কাটা এবং নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং আয়োজক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মহাপুনর্মিলনীর থিম সংও প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মহাপুনর্মিলনী উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ও ১২০ বছর পূর্তি উদ্যাপন পরিষদের সদস্যসচিব শাহ মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ, আজকের পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার সৈয়দ রিয়াদ, জগলু নওশাদ সাগর এবং অরুয়াইল ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আহমেদ মুত্তাকী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মাওলানা কাজী শওকত আলী। গীতা পাঠ করেন বর্তমান শিক্ষার্থী নিজুম চন্দ্র দাস। বিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা কাজী শওকত আলী। সনাতন ধর্মীয় প্রার্থনা পরিচালনা করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরাগ চক্রবর্তী। জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে অনন্যা ও তার দল।
স্বাগত বক্তব্য দেন ১২০ বছর পূর্তি উদ্যাপন কমিটির সদস্যসচিব শাহ মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সন্তোষ কুমার দেব।
মূল বক্তব্যে অধ্যাপক সন্তোষ কুমার দেব বলেন, “এই বিদ্যালয় মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার কর্মশালা। এ বিদ্যালয়ে কত শিক্ষার্থী স্বপ্ন বুনতে শিখেছে। এখান থেকে কেউ শিক্ষক, কেউ সাংবাদিক, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চিকিৎসক, কেউ আইনজীবী, আবার কেউ প্রবাসী হয়েছেন। সবাই এই বিদ্যালয় থেকেই নিজেদের স্বপ্ন গড়ার প্রেরণা পেয়েছেন।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান সিদ্দিকী, মুন্সি আমান, আশরাফুল করিম রিপন, মুনসুর আলী দানা, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী সমিতির সভাপতি আহমেদ মুনাব্বী, আব্দুল আজীজ, আহসান শাহরিয়া তুহফা, ধ্রুব জ্যোতি পাল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হাম্মাদুল ওয়াদুদসহ অনেকে।
বক্তারা বিদ্যালয়জীবনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ ঐতিহ্য, অবদান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ঐতিহ্যবাহী শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে রূপান্তরের প্রস্তাব তুলে ধরে তা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মহাপুনর্মিলনীর লোগো উন্মোচন। আয়োজক কমিটির সদস্য নাছিমের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রৌশন আরা বেগম প্রজেক্টরের মাধ্যমে লোগোটি উন্মোচন করেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রবীণ, নবীন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে কেক কাটেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে বর্তমান শিক্ষার্থী ও স্কাউট সদস্য সিনথিয়া এবং তার দল জারিগান পরিবেশন করে। রাবেয়া ও তার দল পরিবেশন করে নৃত্য।
অনলাইন ও অফলাইনে চলছে নিবন্ধন
বিদ্যালয়ের ১২০ বছর পূর্তি ও মহাপুনর্মিলনী উপলক্ষে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অফলাইন নিবন্ধন বুথের দায়িত্ব পালন করছেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুরসালিন হোসাইন দ্বীপ ও সাদিকুজ্জামান তানভীর। আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মহাপুনর্মিলনী উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলী। তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী, আয়োজক কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
দীর্ঘ ১২০ বছরের ঐতিহ্য ও গৌরবকে ধারণ করে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করাই এ মহাপুনর্মিলনী আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
