ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল আসতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই হঠাৎ বদলে গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিত্র। শুরু হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সরানো হলো হাসপাতালের সামনের গাড়ি, মোটরসাইকেল ও হকারদের দোকান। চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও দেখা গেল বাড়তি তৎপরতা। তবে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রী হাসপাতালে না আসায় অপেক্ষার অবসান ঘটে সংশ্লিষ্টদের।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালজুড়ে এমন চিত্র দেখা যায়। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। মূল ফটক থেকে শুরু করে ভেতরের বিভিন্ন স্থানে বাড়ানো হয় কর্মীদের তৎপরতা। চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও নির্ধারিত কর্মস্থলে উপস্থিত হতে দেখা যায়।
হাসপাতালের মূল ফটকে অবস্থান নেন তত্ত্বাবধায়ক, চিকিৎসক, ড্যাবের নেতৃবৃন্দসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমন ঘিরে প্রস্তুত রাখা হয় ফুলের তোড়াও। কখন মন্ত্রীর গাড়িবহর হাসপাতালে পৌঁছাবে, তা জানতে চলতে থাকে বারবার খোঁজখবর।
জানা যায়, রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় মোবাইল হাসপাতাল কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে অনির্ধারিতভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে আসতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালজুড়ে এই তৎপরতা শুরু হয়।
মন্ত্রীর আগমন নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলতে থাকে নানা জল্পনা। কখনো খবর আসে, মন্ত্রীর গাড়িবহর ভাদুঘর এলাকায় রয়েছে; আবার কখনো পৈরতলা পার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘাটুরা মোড় দিয়ে মন্ত্রী আসতে পারেন—এমন খবরেও হাসপাতালের মূল ফটকে অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের মধ্যে নতুন করে ব্যস্ততা দেখা দেয়।
তবে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মন্ত্রীর গাড়িবহর সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় রয়েছে বলে খবর আসে। এরপর মন্ত্রী আর সদর হাসপাতালে আসছেন না—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে অপেক্ষমাণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। একপর্যায়ে মূল ফটকে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে গিয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যান।
এদিকে, মন্ত্রীর আগমনের খবরে হাসপাতালের পরিবেশে এমন আকস্মিক পরিবর্তন দেখে কৌতূহল তৈরি হয় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে। তাঁদের কারও কারও প্রশ্ন, মন্ত্রী আসার খবর পেলেই যদি দ্রুত হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গোছানো করা সম্ভব হয়, তাহলে প্রতিদিন কেন এমন পরিবেশ বজায় রাখা হয় না?
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার বিষয়টিও এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রোগী ও স্বজনদের প্রত্যাশা, বিশেষ কোনো ব্যক্তির পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে নয়, বরং প্রতিদিনই হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হবে।
