ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার ও চুরি–ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয় নিয়ে তীব্র আলোচনা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদক এখন হাতেহাতে পৌঁছে যাচ্ছে এবং প্রশাসনের কার্যক্রমে ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও জেলা প্রশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস। সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ।
সভায় জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী বলেন,
“গত ৫ই আগস্টের পর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক ব্যবসা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদক আমাদের সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।”
এনজিও প্রতিনিধি এসএম শাহিন বলেন,
“চুরি-ছিনতাই ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এমনকি দিনে-দুপুরে বাসায় চুরির ঘটনা ঘটছে, মোবাইল চুরি হচ্ছে।”
মুক্তিযোদ্ধা আবু হুরায়রা বলেন,
“আগে শুধু গাঁজা ও ফেন্সিডিল আসতো, এখন ইয়াবাও যোগ হয়েছে।”
জেলা জামায়াতের আমীর মোবারক হোসাইন আকন্দ প্রশ্ন তোলেন,
“মাসিক রিপোর্টে দেখি চুরি-ছিনতাই, চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা নেই—আমরা কি এতটাই নিরাপদ হয়ে গেছি?”
জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ অভিযোগ করেন,
“থানায় চাঁদাবাজি বা ছিনতাইয়ের মামলা নেয়া হয় না। শহরের পুনিয়াউটে ছেলেমেয়েরা ঘুরতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছে, অথচ প্রশাসন নির্লিপ্ত।”
এই সব অভিযোগের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান বলেন,
“ছিনতাই বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে না, এমন নয়। আমরা নিয়মিত অভিযানে যাচ্ছি। বড় মাদক ব্যবসায়ী কেউ এখন আর অছোঁয়া নেই। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— এনসিপি সভাপতি আজিজুর রহমান লিটন, সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামিউল ইসলাম, নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া, সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া, বিজিবি ও র্যাবের কর্মকর্তারা।
সভা শেষে সভাপতির বক্তব্যে শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন,
“জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সবাই মিলে কাজ করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে আরও নিরাপদ রাখা সম্ভব।”
