স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদী। একসময় যার স্বচ্ছ পানিতে ছিল প্রাণের স্পন্দন, সেই নদীর তীরেই এখন জমছে কসাইখানার বর্জ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরসংলগ্ন মেড্ডা কসাইখানা থেকে গবাদিপশু জবাইয়ের পর রক্ত, গোবর, নাড়িভুঁড়ি, চর্বি ও অন্যান্য বর্জ্য নিয়মিত নদীর তীর ও পানিতে ফেলা হচ্ছে।
এতে তিতাস নদীর পানি ও আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
নদীতে মিশছে কসাইখানার বর্জ্য
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেড্ডা কসাইখানায় পশু জবাইয়ের পর উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ রক্ত, গোবর, নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফেলা হচ্ছে। বৃষ্টির পানি ও বিভিন্ন উপায়ে এসব বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নদীর তীরে পড়ে থাকা পচনশীল বর্জ্য থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে নদীর পাড়ের পরিবেশ যেমন অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে, তেমনি পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দাদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হুমকিতে জলজ পরিবেশ
পরিবেশবিদদের মতে, কসাইখানার অপরিশোধিত জৈব বর্জ্য সরাসরি জলাশয়ে পড়লে পানিতে জৈব দূষণের মাত্রা বাড়তে পারে। এতে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে গিয়ে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘদিন এ ধরনের দূষণ চলতে থাকলে নদীর স্বাভাবিক জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দেরও অভিযোগ, তিতাস নদীর এই অংশে দূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেই কার্যকর ব্যবস্থা?
অভিযোগ রয়েছে, কসাইখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও পরিবেশসম্মত কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জবাইয়ের পর উৎপন্ন বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বর্জ্য ফেলার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী জলাশয় ও পরিবেশের ক্ষতি করে বর্জ্য ফেলা নিয়ন্ত্রণ ও শাস্তির আওতাভুক্ত। ফলে কসাইখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশসম্মতভাবে হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির দাবি রাখে।
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তিতাস শুধু একটি নদী নয়; এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তাই নদীটিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে কসাইখানার বর্জ্য সরাসরি নদী বা নদীর তীরে ফেলা বন্ধ করতে হবে।
একই সঙ্গে কসাইখানায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, নিয়মিত পরিবেশগত পরিদর্শন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তিতাস নদীর অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এর পরিবেশগত ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
