নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করা মো. মুন্নাফ (৬৭) নামের এক বৃদ্ধের মরদেহ পরিবারের কেউ গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন সম্পন্ন করেছে মানবিক সংগঠন Brahmanbaria Batighar – ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর। এ নিয়ে সংগঠনটির উদ্যোগে মোট ২৪৫টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হলো।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন–এর ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পার্সেল গেট সংলগ্ন এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন মুন্নাফ। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।ঘটনার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে এবং তার পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে পরিচয় নিশ্চিত করে। তিনি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল মুজিদ মোল্লার ছেলে।পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা মরদেহ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মুন্নাফের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্বজনদের যোগাযোগ ছিল না। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিনবার বিয়ে করেন এবং বিভিন্ন স্থানে বসবাস করতেন। তার সন্তান থাকলেও পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।পরবর্তীতে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের উদ্যোগে তাকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “সমাজের অবহেলিত মানুষের শেষ বিদায় সম্মানের সঙ্গে নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত আমরা ২৪৫টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন সম্পন্ন করেছি।”আখাউড়া রেলওয়ে থানায় এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা নং–০৫/২৬ (তারিখ: ২২.০২.২০২৬) দায়ের করা হয়েছে।
