ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অপরাধ জগতের একসময়ের ত্রাস দিদারুল ইসলাম দিদার নিহত হয়েছেন প্রায় এক যুগ আগে। কিন্তু আজও শহরের মৌড়াইল ও কলেজপাড়া এলাকায় তার নাম উঠলে সাধারণ মানুষের মনে সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে ওঠে। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং একের পর এক সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে দিদার গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব ‘দিদার বাহিনী’, যার প্রভাব ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুড়ে।
২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌড়াইল এলাকার কলেজপাড়ায় দিদার যখন চাঁদাবাজি করতে যান, তখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়া সাধারণ জনতা তার ওপর হামলা চালায়।
তৎকালীন পুলিশের ভাষ্যমতে, জনতা কর্তৃক আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র দল দিদারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং কুপিয়ে তার পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তার মৃত্যুর পর জনরোষ এতটাই তীব্র ছিল যে, তার মৃত্যুর পর কাউতলী বা মৌড়াইলের কোনো কবরস্থানে তাকে দাফন করতে দেয়নি এলাকাবাসী, এমনকি মসজিদের মাইকেও তার জানাজা বা দাফনে বাধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পাহারায় তাকে পৈতৃক গ্রাম আশুগঞ্জের তালশহরে দাফন করা হয়।
দিদার হত্যার ঠিক এক মাস পর, ২০১১ সালের ২ জুন দিদার বাহিনীর সদস্যরা এক ভয়াবহ প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিলেন দিদার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং শহর ছাত্রদলের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক উসমান খান। ঢাকা থেকে ফেরার পথে বিশ্বরোড এলাকায় তাকে অতর্কিত ঘিরে ধরে কুপিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। স্থানীয় জনতা তখন ধাওয়া করে দিদার বাহিনীর দুই সদস্যকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছিল।
দিদারের নামে ভয়ংকর ভয়ংকর অভিযোগের প্রমাণ থাকার পরেও তার অনুসারীরা দাবি করতেন, দিদার ছিলেন এলাকার সাধারণ ও নিরীহ মানুষের ভরসাস্থল। সামাজিক বিভিন্ন বিরোধে প্রভাবশালীরা যখন সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হতো, তখন দিদার নিজের বাহিনী নিয়ে মজলুমের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন।
