ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
শেখ মোঃ ইলিয়াস
মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল। মুমূর্ষু এক রোগীর জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং নার্সদের স্বতঃস্ফূর্ত রক্তদানে ঘটেছে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা।
গত বুধবার (৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের বাসিন্দা, অটোরিকশাচালক আব্দুর রহিমের স্ত্রী হাসিনা (২৫)-কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। একটোপিক প্রেগন্যান্সির কারণে তার ফ্যালোপিয়ান টিউব ফেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়, যা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে যায়।
হাসপাতালে আনার সময় তার সঙ্গে ছিল কেবল ৭ বছর বয়সী কন্যা সন্তান সাদিয়া। স্বামী জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন না। রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরা দেরি না করে দ্রুত অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন।
গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. জাকিয়া সুলতানা রুনা, ডা. জিনান রেজা ও ডা. শামীমা রহমান সুমির তত্ত্বাবধানে অপারেশন শুরু হয়। এনেস্থেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী ও ডা. অপর্ণা দাস। অপারেশন থিয়েটারে সহায়তা করেন সিনিয়র স্টাফ নার্স কামরুল ইসলাম এবং ওটি ইনচার্জ মোছা. রুনা আক্তার।
অস্ত্রোপচার চলাকালীন হঠাৎ রোগীর শরীরে জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু সে সময় ওটির বাইরে কোনো স্বজন উপস্থিত না থাকায় এবং হাসপাতালের ব্লাডব্যাংক থেকেও তাৎক্ষণিক রক্ত সরবরাহ সম্ভব না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
এমন সংকটময় মুহূর্তে এগিয়ে আসেন হাসপাতালের নার্সরাই। তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালীর নির্দেশনায় কার্ডিওলজি ওয়ার্ডের ইনচার্জ রুকসানা আক্তার এবং স্টুডেন্ট নার্স তাসলিমা আক্তার নিজেরাই রক্ত দেন। তাদের এই মানবিক উদ্যোগে অবশেষে বেঁচে যান চার সন্তানের জননী হাসিনা।
অপারেশন শুরুর প্রায় ৪৫ মিনিট পর রোগীর স্বামী আব্দুর রহিম হাসপাতালে পৌঁছান।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, “আমাদের নার্সরা যেভাবে পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও মানবিকতার পরিচয় দিয়ে নিজেদের রক্ত দিয়ে রোগীর জীবন বাঁচিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই ঘটনা আমাদের হাসপাতালের সেবার মান ও সুনামকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে। আমরা ভবিষ্যতেও এই মানবিক ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
এই ঘটনা প্রমাণ করে, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার সমন্বয়ে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও সৃষ্টি হতে পারে অনন্য দৃষ্টান্ত।
