নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আশুগঞ্জে অবৈধ বালি উত্তোলন ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ও আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিম।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ দাবি করেন।
ভিডিও বার্তায় ডালিম বলেন, আশুগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারণে চর সোনারামপুর এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া পানিশ্বর এলাকার বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পানিশ্বর বাজারও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে তিনি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সেখানে তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ডালিম বলেন, ২০১৬ সালে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণের সময় তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে একটি ছবি তোলা হয়েছিল। এছাড়া স্থানীয় এক তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে আরেকটি ছবি একটি সামাজিক সালিশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সময় তোলা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে নানা রাজনৈতিক মতের ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তোলা স্বাভাবিক বিষয় এবং তা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রমাণ নয়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিজের সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরেন ডালিম। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আশুগঞ্জে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে কাজ করেন। ৩ ও ৪ আগস্ট ঢাকায় আন্দোলনের সময় টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেটের আঘাতে আহত হওয়ার দাবিও করেন তিনি। এছাড়া ৫ আগস্ট শাহবাগমুখী কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে পুলিশের ধাওয়ার মুখে সহযাত্রীদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন।
ডালিম আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত কিছু সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণায় ভুল ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। যেসব সংবাদমাধ্যম তার বক্তব্য না নিয়েই সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে তিনি দাবি করেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক ও নিউজ এডিটরের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানো হবে।
তবে ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিমের উত্থাপিত এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলোর সত্যতাও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন সম্ভব।
