বিশেষ প্রতিনিধি ও পরিবেশ কর্মী | মোহাম্মদ অলিউল্লাহ খান
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের পাইকপাড়া ননী সাহা রোড সংলগ্ন তিতাস নদীর তীর ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কার্যকর তদারকি ও সংরক্ষণ উদ্যোগের অভাবে নদীর তীরবর্তী এলাকা এখন স্থায়ী ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা, অবৈধ দখল এবং দূষণের কারণে নদীটি তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য হারানোর পথে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় প্রাণচঞ্চল এই নদীর দুই তীরজুড়ে ছিল সবুজ প্রকৃতি ও মানুষের পদচারণা। বর্তমানে সেখানে গড়ে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ। পচনশীল বর্জ্য থেকে নির্গত দুর্গন্ধে নদীতীরের পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এসব বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে পানিদূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, দূষণের কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে এবং ক্রমেই কমে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের সংখ্যা। এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় ও নদীনির্ভর মানুষের জীবিকায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় সকাল-বিকেলে নির্মল বাতাসের জন্য মানুষ তিতাস নদীর তীরে হাঁটতে আসতেন। এখন দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে অনেকেই ওই এলাকায় যেতে অনাগ্রহী। এর পাশাপাশি নদীর তীর দখলের প্রবণতা বাড়তে থাকায় তিতাসের স্বাভাবিক প্রবাহও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিমান কথাসাহিত্যিক অদ্বৈত মল্লবর্মণের কালজয়ী উপন্যাস তিতাস একটি নদীর নাম-এ যে নদীর জীবন, সংস্কৃতি ও মানুষের সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে, সেই ঐতিহ্যবাহী তিতাস আজ অস্তিত্ব সংকটে। পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, অব্যাহত দূষণ ও দখল চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আর কতদিন চলবে এই দখল ও দূষণের মহোৎসব? তারা দ্রুত নদীর তীরে ময়লা ফেলা বন্ধ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, তিতাস নদীকে রক্ষায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। নদীর তীরে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় পুনর্খননের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিতাস শুধু একটি নদী নয়; এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নদীটিকে রক্ষা করা মানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ এবং দেশীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ করা।
